রাজনীতি

বৃহস্পতিবার দেশে আনা হবে খোকার মরদেহ

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। বুধবার নিউইয়র্ক থেকে খোকার কফিন নিয়ে ঢাকার পথে রওনা হয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা। মরদেহ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বুধবার জানান, সাদেক হোসেন খোকার কফিনবাহী এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ইকে ২০২ নম্বর ফ্লাইটটি নিউইয়র্ক সময় মঙ্গলবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটে) দুবাইর পথে রওনা হয়েছে। সেখান থেকে একই এয়ারলাইন্সের ইকে ৫৮২ নম্বর ফ্লাইটে খোকার লাশ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

তিনি বলেন, মরদেহের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র আব্দুস সালাম, খোকার স্ত্রী ইসমাত হোসেন, বড় ছেলে ইশরাক হোসেন, ছোট ছেলে ইসফাক হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেকসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার লাশ দেশে পৌঁছানোর পর বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। একইদিন মরহুমের লাশ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। বাদ জোহর রাজধানীর নয়াপল্টন দলীয় কার্যালয়ের সামনে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৩টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মরহুমের লাশ নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

সেখান থেকে গোপীবাগে মরহুমের নিজস্ব বাসভবনে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে। বাদ আছর মরহুমের বাসভবন থেকে মরদেহ ধুপখোলা মাঠে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানে শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। খোকার অসিয়ত মোতাবেক জুরাইন কবরস্থানের বাবা-মা’র কবরের পাশে দাফন করা হবে সাদেক হোসেন খোকাকে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালে মারা যান খোকা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। খোকা ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তার দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন।

এরপর তিনি সরাসরি নির্বাচনে জয় লাভের মাধ্যমে ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। খোকা ২০১১ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করেন।

কিডনি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের মে মাসে চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে যান সাদেক হোসেন খোকা। এরপর থেকে গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে থাকছিলেন নিউইয়র্ক সিটির ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায়। সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ইসমত হোসেন।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button