বিনোদন

ঢাকার আনোয়ারা বেগম ও কলকাতার রঞ্জিত মল্লিক পাচ্ছেন আজীবন সম্মাননা

দুই ঈদকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতে মুক্তি পাওয়া ছবি থেকে বাছাই করে সেরা চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে এই প্রথম। গতকাল শুক্রবার রাতে কলকাতার একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পুরস্কারের জন্য দুই দেশের মনোনয়ন পাওয়া ছবি, পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ ১৭টি ক্যাটাগরিতে মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নামের তালিকা ঘোষণা করা হয়। এই পুরস্কারের নাম দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলা চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯ বা বিবিএফএ। এবার বাংলাদেশের অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগম ও কলকাতার অভিনেতা রঞ্জিত মল্লিককে দেওয়া হচ্ছে আজীবন সম্মাননা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অভিনেতা আলমগীর, কলকাতার অভিনেতা প্রসেনজিৎ, জিৎ, অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, তনুশ্রী চক্রবর্তী, প্রযোজক অঞ্জন বসু, ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফেরদৌসুল হাসান প্রমুখ। এই উৎসবের সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া।

এই পুরস্কারের জন্য ভারত ও বাংলাদেশে গঠন করা হয়েছে দুই দেশের পাঁচ সদস্যের জুরি বোর্ড। বাংলাদেশে এই জুরি বোর্ডে রয়েছেন চলচ্চিত্র তারকা আলমগীর, সারাহ বেগম কবরী, সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, চলচ্চিত্র প্রযোজক খোরশেদ আলম এবং চলচ্চিত্র পরিচালক হাসিবুর রেজা।
অন্যদিকে ভারতের জুরি বোর্ডে রয়েছেন পরিচালক গৌতম ঘোষ, ফিল্ম ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ার সভাপতি ফিরদৌসুল হাসান, অভিনেত্রী তনুশ্রী চক্রবর্তী, নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু এবং প্রযোজক অঞ্জন বসু।
২০১৮ সালের জুন থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহার মধ্যে মুক্তি পাওয়া ছবি থেকে বাছাই করে পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সেরা ছবি, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা, সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী, সেরা সংগীত, সেরা সংগীত পরিচালক, সেরা নেপথ্য শিল্পী (পুরুষ ও মহিলা), সেরা জনপ্রিয় ছবি, সেরা জনপ্রিয় অভিনেতা, আজীবন সম্মাননাসহ দেওয়া হবে সেরা চিত্রগ্রাহক, এডিটর ও সেরা স্ক্রিন প্লের পুরস্কার।
২১ অক্টোবর ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া হবে এই চলচ্চিত্র পুরস্কার। এই লক্ষ্যে ঢাকায় দুদেশের তারকাদের নিয়ে বিশাল অনুষ্ঠান হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আলমগীর বলেন, ‘আমাদের ১০ বছরের চেষ্টার ফল এই পুরস্কারের আয়োজন। আমরা এবার থেকে নিয়মিত এই পুরস্কার দিয়ে আসব। বাংলাদেশের পর আমরা লন্ডনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চাই আগামী বছর।’ তিনি আরও বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রকে আরও জনপ্রিয় করতে আন্দোলন জোরদার করতে হবে। লক্ষ্য রাখতে হবে আর কোনো প্রেক্ষাগৃহ যেন বন্ধ না হয়ে যায়। লোকজনের মধ্যে বাংলা চলচ্চিত্র দেখার আগ্রহ গড়ে তুলতে হবে। এই লক্ষ্যে দুই দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের এগিয়ে আসতে হবে। বাংলা চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

প্রসেনজিৎ বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাতাদের আরও বেশি করে বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসতে হবে। বাংলা চলচ্চিত্রকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই চলচ্চিত্র শিল্পকে আরও উন্নত করতে হবে। চলচ্চিত্র শিল্পের দৈন্য মুছে দিতে হবে।

মনোনয়ন প্রাপ্তদের তালিকায়:
বাংলাদেশ:
সেরা ছবি: পাঠশালা, দহন, সুপার হিরো, দেবী ও নোলক।
সেরা পরিচালক: ফয়সাল রাব্বি-আসিফ ইসলাম, রায়হান রফি, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও অনম বিশ্বাস।
সেরা অভিনেতা: শাকিব খান (তিনটি চলচ্চিত্রে), মোস্তফা মনোয়ার ও সিয়াম আহমেদ।
সেরা অভিনেত্রী: জয়া আহসান, পূজা চেরি রায়, ইয়ামিন হক ববি, নুসরাত ইমরোজ তিশা।
সেরা জনপ্রিয় ছবি: পাসওয়ার্ড, পোড়ামন ও দেবী।

ভারত:
সেরা ছবি: এক যে ছিল রাজা, নগর কীর্তন, সোনার পাহাড়, ব্যোমকেশ গোত্র ও মহালয়া।
সেরা পরিচালক: কৌশিক গাঙ্গুলি, শ্রী জিৎ মুখার্জি, শিবপ্রসাদ মুখার্জি-নন্দিতা রায়, ধ্রুব ব্যানার্জি ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়।
সেরা অভিনেতা: প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি, যীশু সেনগুপ্ত, ঋদ্ধি সেন, শুভাশীষ মুখার্জি, আবির চ্যাটার্জি ও রুদ্রনীল ঘোষ।
সেরা অভিনেত্রী: পাওলি দাম, স্বস্তিকা মুখার্জি, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত ও অপর্ণা সেন।
এ ছাড়া রয়েছে অন্যান্য ক্যাটাগরিতে আরও তারকাদের নাম।

Tags

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button